ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 16 বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে অনড় রয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধই থাকবে।
গালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করার পর যুক্তরাষ্ট্র একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানের কাছে কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবের পরও ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের বোঝা উচিত—একতরফা দাবি চাপিয়ে দিয়ে সময়ক্ষেপণের দিন শেষ হয়ে গেছে। ইরানের অবস্থান এখনো ‘স্পষ্ট ও চূড়ান্ত’।
গালিবাফের ভাষায়, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
যুদ্ধ অবসানের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন অবস্থান জানানো হলো। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থা আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরান ‘উচ্ছ্বসিত’ও নয়, আবার ‘ভীত’ও নয়। তেহরান একই সঙ্গে যুদ্ধ ও কূটনীতির পথেই এগিয়ে যাবে।
তিনি জানান, সামরিক ক্ষেত্রে ইরান সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন নতুন চমকের মুখোমুখি করবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করে সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হবে।
ইরানের শর্তগুলো কী?
গত মাসে যুদ্ধ অবসানের জন্য কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একগুচ্ছ শর্ত পেশ করে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে—
সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান;
বিদেশে জব্দ বা স্থগিত থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ছাড়;
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার;
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ;
ইরানের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বন্ধ;
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের হামলা বন্ধ।
এর সঙ্গে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে আরও কিছু শর্ত যুক্ত করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পথ তৈরি করতে চাইছে তেহরান।
যুদ্ধের পাশাপাশি চলবে কূটনীতিও
ইরানের বর্তমান অবস্থান থেকে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
মধ্যস্থতায় কাতার
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ চলছে। এর মধ্যে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত মাসেও যুদ্ধ অবসানের শর্তগুলো কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেয় তেহরান।
গালিবাফের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের সাত দিনের রোডম্যাপের পর যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু প্রস্তাব বা আলোচনা যথেষ্ট নয়। যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বন্ধসহ নির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবে পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ফলে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ চললেও হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, তা নির্ভর করছে ইরানের সাত দফা শর্ত কতটা পূরণ হয় এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয় তার ওপর।
সূত্র: আল-জাজিরা
Posted ৮:১৬ এএম | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।